আরও দেখুন
মঙ্গলবার বেশ কয়েকটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, তবে আসন্ন প্রতিবেদনগুলোর কোনোটিই মার্কেটে তেমন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে বলে মনে হচ্ছে না—এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো যুক্তরাজ্যের বেকারত্ব ও মজুরি সংক্রান্ত প্রতিবেদন। ইউরোজোন ও জার্মানিতে ZEW ইকোনোমিক সেন্টিমেন্ট সূচক প্রকাশিত হবে, আর যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশ করা হবে হাউজিং স্টার্টস ও বিল্ডিং পারমিট সংক্রান্ত প্রতিবেদন। আমাদের মতে, সম্ভবত কেবল যুক্তরাজ্যে প্রকাশিতব্য প্রতিবেদনের প্রভাবেই মার্কেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে—যদিও সেই প্রতিক্রিয়াও খুব একটা জোরালো না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। ট্রেডাররা মূলত এখনও মুদ্রাস্ফীতি সংক্রান্ত প্রতিবেদনের দিকেই মনোযোগ দিচ্ছে; গত এক মাসে তারা যুক্তরাজ্য ও ইউরোজোনের অনেক প্রতিবেদনই কার্যত উপেক্ষা করেছেন। যদি মার্কিন ডলার ক্রয়ের ভিত্তিহীন প্রবণতা শেষ হয়ে থাকে, তবে শক্তিশালী কোনো মৌলিক কারণ ছাড়াই ইউরো ও পাউন্ডের মূল্য বাড়তে পারে।
মঙ্গলবার ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের কর্মকর্তা মেগান গ্রিন এবং সাশা মিলস বক্তব্য দেবেন। ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের পরবর্তী বৈঠকটি দুই সপ্তাহ পর অনুষ্ঠিত হবে এবং উক্ত বৈঠকে সুদের হার আরও বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে, কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোজোনের মতোই যুক্তরাজ্যেও মুদ্রাস্ফীতি বাড়ছে। ফলে, ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড—উভয়ই মুদ্রানীতি কঠোর করবে বলে আশা করা হচ্ছে; অন্যদিকে, ফেডারেল রিজার্ভ পরবর্তী সম্ভাব্য পদক্ষেপ গ্রহণের সময়সীমা ডিসেম্বর পর্যন্ত পিছিয়ে দিয়েছে।
ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এখনও বেশ উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আলোচনা চলছে না, যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার বলে আসছেন যে মার্কিন কংগ্রেস নির্বাচনের পর একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। ট্রাম্প এও দাবি করে আসছেন যে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার সংঘাতের খুব দ্রুতই সমাপ্তি ঘটতে পারে—এমন কথা তিনি প্রায় দুই বছর ধরে বলে আসছেন—তবে এই আশাব্যঞ্জক বক্তব্য ট্রেডারদের কাছে তেমন কোনো গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে না। বছরের শেষ নাগাদ চলমান সংঘাতগুলোর কোনোটিরই সমাধান হবে বলে মনে হচ্ছে না। ট্রাম্প ইউক্রেন সংঘাতের অবসান ঘটাতে চাইলেও ইরানের সঙ্গে নিজেদের বিরোধ মেটাতে পারছেন না; অন্যদিকে ইরান আশা করছে, কংগ্রেস নির্বাচনে রিপাবলিকানরা পরাজিত হলে মার্কিন চাপ হয়তো কিছুটা কমতে পারে।
চলতি সপ্তাহের দ্বিতীয় দিনের ট্রেডিংয়ে উভয় কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে, যেহেতু শেষ পর্যন্ত বিয়ারিশ বা নিম্নমুখী প্রবণতা দুর্বল হতে শুরু করেছে। আজ ইউরো 1.1198–1.1218 এরিয়ায় এবং পাউন্ড 1.3319–1.3331 রেঞ্জের মধ্যে ট্রেড করা যেতে পারে। আজ কারেন্সি মার্কেটে স্বল্প মাত্রার অস্থিরতা বজায় থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।