আরও দেখুন
বৃহস্পতিবার GBP/USD পেয়ারের মূল্যেরও উর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গিয়েছে, তবে সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও মৌলিক প্রেক্ষাপট ও তার সম্ভাব্য পরিণতির তুলনায় এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অত্যন্ত দুর্বল ছিল। মার্কিন নন-ফার্ম পে-রোল প্রতিবেদনের ফলাফল কেবল দুর্বলই ছিল না; এটি কার্যত সেপ্টেম্বরে ফেডারেল রিজার্ভ কর্তৃক মুদ্রানীতি কঠোর করার সম্ভাবনাকে নাকচ করে দিয়েছে, যা ট্রেডাররা গত দুমাস ধরে প্রত্যাশা করছিল। ফলে মার্কিন ডলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সমর্থন হারাচ্ছে। স্মরণীয় যে ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট আর মার্কিন ডলারকে সহায়তা যোগাচ্ছে না। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিন ধরেই সংঘাত বন্ধ রয়েছে, এবং বাস্তবে সেটাই সবচেয়ে ভালো অবস্থা। তেহরান ও ওয়াশিংটন আলোচনার জন্য কোনো যৌথ ভিত্তি খুঁজে পাচ্ছে না; তাই আলোচনাও চলছে না, কিন্তু আবার যুদ্ধ শুরু করাও ততটা যুক্তিসঙ্গত নয়। হরমুজ প্রণালী শীঘ্রই খুলে যেতে পারে, অথবা বহু বছর বন্ধই থাকতে পারে। মূল বিষয় হচ্ছে — ডোনাল্ড ট্রাম্প যা বলেন না কেন, আমরা পুনরায় পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর্যাপ্ত কারণ দেখছি না। এর মানে হলো ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসেটের দিকে মূলধন প্রবাহিত হতে শুরু করলে মার্কিন ডলারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার সম্ভাবনা আরও কমে যাবে।
শুক্রবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে দুটি ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল যা কাজে লাগিয়ে ট্রেডাররা ট্রেড করতে পারতেন। প্রথমে এই পেয়ারের মূল্য 1.3456–1.3476 এরিয়া থেকে বাউন্স করেছিল, এবং পরে তা ওই এরিয়া ব্রেক করে যায়। প্রথম সেল সিগন্যালটি তুলনামূলকভাবে দুর্বল প্রমাণিত হয়েছিল, এবং নন-ফার্ম পে-রোল প্রতিবেদন প্রকাশের পরে এই পেয়ারের মূল্য প্রকৃতপক্ষে দ্রুত উপরের দিকে উঠে যায়। দ্বিতীয় বাই সিগন্যালটি কাজে লাগিয়ে ট্রেড করা যেত, কিন্তু টেকনিক্যালভাবে সেই ট্রেডটি নতুন সপ্তাহেও ওপেন রাখতে হত।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে GBP/USD পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে। আমাদের মতে, স্থানীয় কারণগুলো পাউন্ডকে সহায়তা না করলেও এটির মূল্য বৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত থাকবে। সাপ্তাহিক টাইমফ্রেমে গত মাস থেকেই এই পেয়ারের মূল্য কনসলিডেশন চ্যানেলের লোয়ার বাউন্ডারি থেকে আপার বাউন্ডারির দিকে উঠতে শুরু করেছে এবং এই মুভমেন্ট এখনও সম্পন্ন হয়নি। মার্কেটে সেপ্টেম্বরে ফেড কর্তৃক সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যাশা বিলীন হতে শুরু করেছে এবং ট্রেডাররা ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে তেমন কোনো মনোযোগ দিচ্ছে না, তাই টেকনিক্যাল প্রেক্ষাপট অনুযায়ী পাউন্ডের দর বৃদ্ধির সম্ভাবনাই বেশি।
সোমবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3456–1.3476 এরিয়ার নিচে কনসোলিডেট করে, তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3380–1.3386-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। অন্যদিকে, লং পজিশনগুলো হোল্ড করে রাখা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.3587–1.3598-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
5-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3175–1.3180, 1.3259–1.3267, 1.3319–1.3331, 1.3380–1.3386, 1.3456–1.3476, 1.3587–1.3598, 1.3631–1.3641, 1.3695। সোমবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা যুক্তরাজ্যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না বা কোনো ইভেন্ট নির্ধারিত নেই, তাই আজ মার্কেটে খুবই দুর্বল মুভমেন্টের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।