আরও দেখুন
বৃহস্পতিবার বেশ কয়েকটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রকাশনা প্রকাশিত হবে। জার্মানিতে দ্বিতীয় প্রান্তিকের জিডিপি এবং মুদ্রাস্ফীতির প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। ইউরোজোনে জিডিপি এবং বেকারত্ব সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্যক্তিগত ভোগ ব্যয় (PCE) মূল্য সূচক এবং দ্বিতীয় প্রান্তিকের জিডিপির প্রতিবেদনের পাশাপাশি মার্কিন জনগণের ব্যক্তিগত ব্যয়/আয় সংক্রান্ত প্রতিবেদনও প্রকাশিত হবে। অবশ্যই, জিডিপির প্রতিবেদন ট্রেডারদের সবচেয়ে বেশি মনোযোগ আকর্ষণ করবে; তবে, আমরা জার্মানির মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদনের দিকে ট্রেডারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। আশা করা হচ্ছে যে জুলাই মাসে দেশটির মুদ্রাস্ফীতি ২.৩% থেকে বেড়ে ২.৭% হবে। সুতরাং, এটা ধরে নেওয়া যেতে পারে যে এই সময়ে ইউরোজোন এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশেও মুদ্রাস্ফীতি বাড়বে, কারণ জ্বালানি তেলের দাম আবার বেড়েছে। এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো, বিশেষ করে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক সেপ্টেম্বরে আর্থিক নীতিমালা কঠোর করতে পারে।
বৃহস্পতিবারের ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টগুলোর মধ্যে ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের বৈঠকটি উল্লেখযোগ্য। যুক্তরাজ্যে মুদ্রাস্ফীতি কমতে থাকায় ব্রিটিশ কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক হকিশ বা কঠোর অবস্থান গ্রহণের তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই। এমনকি ব্যাংক অব ইংল্যান্ড ডোভিশ বা নমনীয় অবস্থানও গ্রহণ কোরতে পারে, যার ফলে ব্রিটিশ পাউন্ডের দরপতন হতে পারে। মূলত, সার্বিক পরিস্থিতি অ্যান্ড্রু বেইলির বক্তব্য এবং মনিটারি কমিটির ভোটের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে। গতকাল ফেড যথেষ্ট হকিশ বা কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেনি বলে মার্কিন ডলারের দরপতন হয়েছিল এবং আজ একই কারণে ব্রিটিশ পাউন্ডের দরপতন হতে পারে।
ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এখনও বেশ হতাশাজনক। আরেকবার যুদ্ধবিরতির শর্তাবলী লঙ্ঘিত হয়েছে, সংঘাত আবার শুরু হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহ ধরে একে অপরের উপর ব্যাপক বোমাবর্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে, সেইসাথে বর্তমানে কোনো আলোচনা হচ্ছে না। হরমুজ প্রণালী বন্ধ রয়েছে, ইয়েমেনের হুথিরা সৌদি আরবের ওপর নৌ অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে এবং তেহরান বাব-এল-মান্দেব প্রণালী সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। সময়ের সাথে সাথে পরিস্থিতি কেবল আরও খারাপ হচ্ছে, যার ফলে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাচ্ছে।
চলতি সপ্তাহের শেষদিকের ট্রেডিংয়ে, 1.1366-1.1474-এর সাইডওয়েজ চ্যানেলের লোয়ার বাউন্ডারির দিকে ইউরোর মূল্যের মুভমেন্ট অব্যাহত থাকতে পারে। ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় থাকতে পারে। আজ ইউরো 1.1461-1.1474 এরিয়া থেকে এবং ব্রিটিশ পাউন্ড 1.3319-1.3331 এরিয়া থেকে ট্রেড করা যাবে। দিনভর উভয় কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের উচ্চমাত্রার অস্থিরতা বজায় থাকতে পারে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।