আরও দেখুন
মঙ্গলবারে শুধুমাত্র একটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে এবং সেটি হচ্ছে মার্কিন ভোক্তা মূল্য সূচক (সিপিআই)। তবে, এই প্রতিবেদনটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ, অন্তত এখন পর্যন্ত। যদি মার্কিন মুদ্রাস্ফীতি নিজে থেকেই কমতে শুরু করে, তাহলে ফেডারেল রিজার্ভ কর্তৃক আর্থিক নীতিমালা কঠোর করার প্রয়োজন নাও হতে পারে। তবে, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর পরিপ্রেক্ষিতে জ্বালানি তেলের মূল্য আবার বাড়ছে, তাই এই পরিস্থিতিতে মুদ্রাস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে বা দীর্ঘ সময়ের জন্য কমার সম্ভাবনা কম। তা সত্ত্বেও, জুনে দেশটির মুদ্রাস্ফীতির হার কমে ৩.৮%-এ নেমে আসতে পারে, যা কিছু সময়ের জন্য হলেও মুদ্রাস্ফীতির চাপ কিছুটা কমাতে পারে।
মঙ্গলবারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফান্ডামেন্টাল ইভেন্ট হিসেবে ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের গভর্নর অ্যান্ড্রু বেইলি এবং ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের বক্তব্য অনুষ্ঠিত হবে। স্বাভাবিকভাবেই, ট্রেডাররা মূলত মার্কিন কংগ্রেসে অনুষ্ঠেয় ওয়ার্শের বক্তব্যের ওপর মনোযোগ দেবে। যদি ওয়ার্শ মূল সুদের হার বাড়ানোর প্রস্তুতি নিশ্চিত করেন, তাহলে মার্কিন ডলার শক্তিশালী হতে পারে। তবে, আমরা মনে করি না যে ফেড চেয়ারম্যান প্রকাশ্যে আর্থিক নীতিমালা কঠোর করার প্রস্তুতির কথা ঘোষণা করবেন। সম্ভবত, তিনি আবারও উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির বিষয়টি তুলে ধরবেন এবং এ বিষয়ে মার্কিন নিয়ন্ত্রক সংস্থার উদ্বেগ প্রকাশ করবেন। চরম প্রয়োজন ছাড়া, ওয়ার্শ সুদের হার বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেবেন না। অ্যান্ড্রু বেইলির ক্ষেত্রে, কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতির প্রত্যাশা করা হচ্ছে না, কারণ ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড গত বৈঠকে পুরোপুরিভাবে 'অপেক্ষা এবং পর্যবেক্ষণের' অবস্থান গ্রহণ করেছে।
ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ধারাবাহিকভাবে "শর্তসাপেক্ষে ইতিবাচক" রয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে; যদিও, অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে। বিশেষ করে, 'পারমাণবিক ইস্যু', লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যকার যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালীর সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিরোধ বজায় রয়েছে। তাত্ত্বিকভাবে, ট্রেডাররা হয়তো পুনরায় একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা করতে পারে, কিন্তু মার্কিন ডলারের দর আবার সক্রিয়ভাবে বাড়তে শুরু করার জন্য এটি স্পষ্টতই যথেষ্ট নয়। সর্বোপরি, তেহরান ও ওয়াশিংটন আলোচনা প্রক্রিয়া থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসেনি। তবে, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতির ভঙ্গুরতা বিষয়টি পরিলক্ষিত হচ্ছে। আলোচনা ও চুক্তি যেকোনো মুহূর্তে ভেস্তে যেতে পারে।
চলতি সপ্তাহের দ্বিতীয় দিনের ট্রেডিংয়ে, গত ৯ কার্যদিবসের তুলনায় উভয় কারেন্সি পেয়ারের আরও সক্রিয়ভাবে ট্রেডিং দেখা যেতে পারে। ইউরো 1.1354-1.1363 এরিয়া থেকে ট্রেড করা যেতে পারে, অন্যদিকে ব্রিটিশ পাউন্ড 1.3380-1.3386 এবং 1.3319-1.3331 এরিয়া থেকে ট্রেড করা যেতে পারে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে উভয় কারেন্সি পেয়ারের মূল্য হ্রাস পেয়েছে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।