আরও দেখুন
যখন MACD সূচকটি শূন্যের বেশ উপরে উঠে গিয়েছিল তখন এই পেয়ারের মূল্য 1.1533 লেভেল টেস্ট করেছিল—যা এই পেয়ারের মূল্যের উর্ধ্বমুখী হওয়ার সম্ভাবনাকে সীমিত করে। এই কারণে আমি ইউরো কিনিনি।
গতকাল, ইরান ইরাকে অবস্থিত দুইটি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশ হওয়া সত্ত্বেও মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইউরোর দর বাড়তে থাকে। ট্রেডাররা কিছুটা বিভ্রান্তিতে রয়েছে বলে মনে হচ্ছিল, কারণ তাঁরা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা তীব্রতার সম্ভাব্য প্রভাব মূল্যায়ন করার চেষ্টা করছে। একদিকে, এমন মুহূর্তগুলিতে বিনিয়োগকারীরা সাধারণত নিরাপদ বিনিয়োগ খুঁজে নেন—যেমন মার্কিন ডলার। অন্যদিকে, সবাই ইতোমধ্যে এই ধরনের সংঘর্ষে অভ্যস্ত হয়ে গেছে এবং বিশেষভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে না। এখন মূল প্রশ্ন হলো মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ দ্বারা সৃষ্ট মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাবে।
আজ দিনের প্রথমার্ধে জার্মানির শিল্প উৎপাদন সম্পর্কিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে—যা ইউরোপীয় অর্থনীতির ইঞ্জিন হিসেবে বিবেচিত দেশটির উৎপাদন খাতের অবস্থা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দেবে। এই সূচকটি উৎপাদন খাতের বর্তমান অবস্থা প্রদর্শন করে এবং প্রায়শই সার্বিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমের একটি অগ্রণী নির্দেশক হিসেবে বিবেচিত হয়। একই সময়ে জার্মানির ট্রেড ব্যালেন্স সংক্রান্ত প্রতিবেদনও প্রকাশিত হবে—যা রপ্তানি ও আমদানি পণ্যের পার্থক্যকে প্রতিফলিত করে এবং এই সূচকের ফলাফল ইউরোর এক্সচেঞ্জ রেটে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।
নিঃসন্দেহে দিনের প্রধান ইভেন্ট হিসেবে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন লাগার্ডের বক্তৃতাকে বিবেচনা করা যায়। ভবিষ্যৎ আর্থিক নীতিমালা সম্পর্কে সংকেত পাওয়ার উদ্দেশ্যে ট্রেডাররা তাঁর প্রতিটি মন্তব্য ঘনিষ্ঠভাবে বিশ্লেষণ করবে। ট্রেডাররা ভবিষ্যত সুদের হার নিয়ে যেকোনো পদক্ষেপের ইঙ্গিত এবং মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি সম্পর্কে ইসিবি প্রেসিডেন্টের মূল্যায়ন সম্পর্কে ধারণা পেতে চাইবে।
দৈনিক কৌশলের ক্ষেত্রে আমি প্রধানত পরিকল্পনা 1 ও 2 বাস্তবায়নের উপর বেশি নির্ভর করব।
পরিকল্পনা #1: আজ যখন ইউরোর মূল্য 1.1582-এর লেভেলে বৃদ্ধির লক্ষ্যে 1.1559-এর (চার্টে সবুজ লাইন দ্বারা চিহ্নিত) লেভেলে পৌঁছাবে, তখন আপনি ইউরোর লং পজিশন ওপেন করতে পারেন। মূল্য 1.1582-এর লেভেলে গেলে, আমি লং পজিশন ক্লোজ করার পরিকল্পনা করছি এবং এন্ট্রি পয়েন্ট থেকে বিপরীত দিকে 30-35 পিপসের মুভমেন্টের উপর নির্ভর করে ইউরোর শর্ট পজিশন ওপেন করব। আজ শুধুমাত্র ইউরোজোনে প্রকাশিতব্য প্রতিবেদনের ইতিবাচক ফলাফল প্রকাশিত হলে ইউরোর মূল্য বৃদ্ধি পেতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ: এই পেয়ার কেনার আগে, নিশ্চিত করুন যে MACD সূচকটি শূন্যের উপরে রয়েছে এবং সেখান থেকে উপরের দিকে উঠতে শুরু করেছে।
পরিকল্পনা #2: আজ MACD সূচকটি ওভারসোল্ড জোনে থাকাকালীন সময়ে মূল্য পরপর দুইবার 1.1539-এর লেভেল টেস্টের ক্ষেত্রে আমি ইউরোর লং পজিশন ওপেন করার পরিকল্পনা করছি। এটি এই পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী হওয়ার সম্ভাবনাকে সীমিত করবে এবং মূল্যকে বিপরীতমুখী করে ঊর্ধ্বমুখী করবে। আমরা 1.1559 এবং 1.1582-এর বিপরীতমুখী লেভেলের দিকে এই পেয়ারের দর বৃদ্ধির প্রত্যাশা করতে পারি।
পরিকল্পনা #1: EUR/USD পেয়ারের মূল্য 1.1539-এর (চার্টে লাল লাইন) লেভেলে পৌঁছানোর পর আমি ইউরোর শর্ট পজিশন ওপেন করার করার পরিকল্পনা করছি। বিক্রেতাদের জন্য মূল লক্ষ্যমাত্রা হবে 1.1505-এর লেভেল, যেখানে মূল্য পৌঁছালে আমি সেল পজিশন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছি এবং এন্ট্রি পয়েন্ট থেকে বিপরীত দিকে 20-25 পিপসের মুভমেন্টের উপর নির্ভর করে ইউরোর বাই পজিশন ওপেন করব। আজ আসন্ন প্রতিবেদনের দুর্বল ফলাফল প্রকাশিত হলে এই পেয়ারের উপর চাপ ফিরে আসতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ: বিক্রি করার আগে, নিশ্চিত করুন যে MACD সূচকটি শূন্যের নিচে রয়েছে এবং শূন্যের নিচে নামতে শুরু করেছে।
পরিকল্পনা #2: MACD সূচকটি ওভারবট জোনে থাকাকালীন সময়ে মূল্য পরপর দুইবার 1.1559-এর লেভেল টেস্টের ক্ষেত্রে আমি আজ ইউরোর শর্ট পজিশন ওপেন করতে যাচ্ছি। এটি এই পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সম্ভাবনাকে সীমিত করবে এবং মূল্যকে বিপরীতমুখী করে নিম্নমুখী করবে। আমরা 1.1539 এবং 1.1505-এর বিপরীতমুখী লেভেলের দিকে এই পেয়ারের দরপতনের আশা করতে পারি।