empty
 
 
03.06.2026 09:32 AM
জ্বালানি তেলের মূল্য আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে

আবারও জ্বালানি তেলের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দর ব্যারেলপ্রতি প্রায় $97-এ পৌঁছেছে, অন্যদিকে ডাব্লিউটিআই-এর দর ব্যারেল প্রতি প্রায় $95-এ অবস্থান করছে—চলতি সপ্তাহের প্রথম দুই দিনের ট্রেডিংয়ে উভয় গ্রেডের তেলের দরই ৭ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এটা স্পষ্ট যে, মার্কিন-ইরান শান্তি আলোচনাকে ঘিরে যে আশাবাদ তৈরি হয়েছিল, যার ফলে জ্বালানি তেলের দর ১৯ শতাংশ কমে গিয়েছিল, তা দ্রুত ম্লান হয়ে যাচ্ছে।

This image is no longer relevant

জ্বালানি তেলের এই মূল্য বৃদ্ধির যথেষ্ট কারণ রয়েছে। ইরান কুয়েত ও বাহরাইনকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে—এগুলো হয় প্রতিহত করা হয়েছে অথবা পথেই ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে—অন্যদিকে মার্কিন বাহিনী কেশম দ্বীপের একটি কমান্ড সেন্টারে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এদিকে একটি ইরানি ড্রোন হামলায় যাত্রীবাহী টার্মিনালের ক্ষতি সাধনের পর কুয়েতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করা হয়েছে। এই সবকিছু এমন এক প্রেক্ষাপটে ঘটছে যেখানে ট্রাম্প শীঘ্রই চূড়ান্ত হতে চলা একটি চুক্তি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন—পাশাপাশি একই সময়ে ইরানি গণমাধ্যম থেকে লেবাননে সংঘাতের কারণে আলোচনা স্থগিত থাকার খবরও আসছে। ট্রেডাররা পরস্পরবিরোধী সংকেত পাচ্ছে এবং সবচেয়ে বাস্তবমুখী সংকেত—অর্থাৎ উত্তেজনা বৃদ্ধির—প্রতি সাড়া দিচ্ছে।

গতকাল সন্ধ্যায় একটি মৌলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। এবিসি নিউজের মতে, ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির প্রাথমিক চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানকে তাদের পারমাণবিক কার্যক্রমে ছাড়ের বিষয়গুলো লিখিতভাবে দেওয়ার দাবি করছেন। এর আগে, তেহরান বিভিন্ন শর্তের বিষয়ে কেবল মৌখিক আশ্বাস দিয়েছিল। এই শর্তটি আলোচনা প্রক্রিয়াকে উল্লেখযোগ্যভাবে জটিল করে তুলেছে—ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কে লিখিত প্রতিশ্রুতি আদায় করা মৌখিক আশ্বাস আদায়ের চেয়ে রাজনৈতিকভাবে অনেক বেশি কঠিন, যা ব্যাখ্যা করে কেন মাত্র এক সপ্তাহ আগেও আসন্ন বলে মনে হওয়া একটি চুক্তি এখনও স্বাক্ষরিত হয়নি।

এটিও লক্ষণীয় যে, জ্বালানি তেল সরবরাহের ঘাটতি ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। আমেরিকান তেলখাতের তথ্য মতে, গত সপ্তাহে মার্কিন অপরিশোধিত তেলের মজুত ৬৮ লক্ষ ব্যারেল কমেছে। যদি জ্বালানি বিভাগের আনুষ্ঠানিক তথ্যে এই সংখ্যাটি নিশ্চিত হয়, তবে এটি টানা ষষ্ঠবারের মতো মজুত হ্রাস হিসেবে বিবেচিত হবে। এই সবকিছুই ইঙ্গিত দেয় যে, তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হতে এখনও অনেক সময় এবং জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির সম্ভাবনাই বেশি—বিশেষ করে আসন্ন তৃতীয় প্রান্তিকের কথা বিবেচনা করলে, যখন মৌসুমি কারণে জ্বালানি পণ্যের চাহিদা বেশি থাকে।

This image is no longer relevant

বর্তমান টেকনিক্যাল পরিস্থিতি অনুযায়ী, ক্রেতাদের জ্বালানি তেলের মূল্যকে নিকটস্থ রেজিস্ট্যান্স $100.40-এ পুনরুদ্ধার করা প্রয়োজন। এতে করে তারা তেলের মূল্যের $106.80-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে পারবে, যা ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং হবে। পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে $110.80-এর লেভেল নির্ধারণ করা যায়। দরপতনের ক্ষেত্রে জ্বালানি তেলের দর $92.54-এ থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবে। তারা সফল হলে মূল্য ওই রেঞ্জ ব্রেক করে নিম্নমুখী হলে সেটি বুলিশ পজিশনের উপর গুরুতর আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং জ্বালানি তেলের দর $86.50 পর্যন্ত নেমে যাবে, যেখানে পরবর্তীতে $81.40 পর্যন্ত দরপতনের সম্ভাবনা রয়েছে।

Recommended Stories

এখন কথা বলতে পারবেন না?
আপনার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন চ্যাট.