আরও দেখুন
বৈশ্বিক ইকুইটি সূচকগুলো ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে, জ্বালানি তেলের 5%-এর বেশি দরপতন ঘটেছে, এবং মার্কিন ডলারেরও দরপতন হয়েছে — মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান হরমুজ প্রণালীর ব্যাপারে চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ায় এমন পরিস্থিতি পরিলক্ষিত হয়েছে।
MSCI অল কান্ট্রি ওয়ার্ল্ড ইনডেক্স 0.3% বৃদ্ধি পেয়েছে, যা চলতি মাসের সর্বোচ্চ স্তরের কাছকাছি পৌঁছেছে। জাপানের নিক্কেই সূচক প্রায় 3% বৃদ্ধি পেয়ে রেকর্ড লেভেলে পৌঁছেছে, যেখানে প্রযুক্তি খাত আবারও অগ্রণী ভূমিকায় ছিল। S&P 500 সূচকের ফিউচার্স প্রায় 1% বেড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দর ব্যারেল প্রতি $98-এর নিচে নেমে গেছে, যা দুই সপ্তাহেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন লেভেল।
সংক্ষেপে সার্বিক পরিস্থিতি: ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি খসড়া সমঝোতা স্মারক প্রস্তুত করেছে। এই স্মারকের আওতায় যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ৬০ দিন পর্যন্ত বাড়ানো হবে এবং একই সাথে মাইন অপসারণ ও হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। জানা গেছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং দেশটির জব্দকৃত সম্পদ অবমুক্ত করার বিষয়েও সমান্তরালভাবে আলোচনা চলছে। সম্পর্কের বরফ গলার বা উত্তেজনার প্রশমনের দৃশ্যমান লক্ষণ ইতোমধ্যেই দেখা যাচ্ছে: গত ২৪ ঘণ্টায় তেলবাহী ট্যাঙ্কার ও কন্টেইনার জাহাজসহ মোট ৩৩টি নৌযান আইআরজিসির নৌবাহিনীর অনুমতি নিয়ে এই প্রণালী অতিক্রম করেছে।
তবে কেবল এই ধরনের খবরের ওপর ভিত্তি করে তেল বিক্রি করা এখনো ঝুঁকিপূর্ণ। ইরানের সংবাদ সংস্থা সতর্ক করে দিয়ে বলেছে যে, সম্পদ অবমুক্তকরণ সংক্রান্ত মতবিরোধের কারণে এই খসড়া চুক্তিটি ভেস্তে যেতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, তিনি চুক্তি সম্পাদনের ক্ষেত্রে কোনো তাড়াহুড়ো করবেন না; অন্যদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মন্তব্য করেছেন যে, রবিবার সন্ধ্যায় তিনি এ বিষয়ে আরও খবরের প্রত্যাশা করছেন, তবে প্রাথমিক প্রতিবেদনগুলোকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিয়ে ব্যাখ্যা করার ব্যাপারে তিনি সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন।
স্টক মার্কেট সংশ্লিষ্ট অনেকের মতে, বর্তমানে চুক্তি সম্পাদিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৫০-৫০—যা আশাব্যঞ্জক হলেও নিশ্চিত হওয়ার পর্যায় থেকে যোজন যোজন দূরে। এএনজেড সতর্ক করে দিয়ে জানিয়েছে যে, হরমুজ প্রণালী আংশিকভাবে খুলে দেওয়া হলেও জ্বালানি তেলের মূল্যের অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে।
এর অন্তর্নিহিত যুক্তিটি বেশ সরল: জ্বালানি তেলের মূল্য কমলে মুদ্রাস্ফীতির চাপ হ্রাস পায়, যার ফলে সুদের হার বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা কমে আসে—যা স্টক মার্কেট, বন্ড এবং স্বর্ণের জন্য একটি ইতিবাচক দিক। এই সপ্তাহে প্রকাশিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা ব্যয় সংক্রান্ত প্রতিবেদন এবং ইউরোপের মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদনের ফলাফল ট্রেডারদের সামনে এই বিষয়টি স্পষ্ট করে দেবে যে, কূটনৈতিক অগ্রগতির ফলে মুদ্রাস্ফীতির সামগ্রিক চিত্রটি যথেষ্ট দ্রুতগতিতে পরিবর্তিত হচ্ছে কি না—যাতে নতুন চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের নেতৃত্বে 'ফেড' (মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক) সুদের হার বাড়ানোর প্রক্রিয়াটি সাময়িকভাবে স্থগিত করার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। ট্রেডাররা ইতোমধ্যেই বছরের শেষ নাগাদ সুদের হার বৃদ্ধির বিষয়টি তাদের মূল্যায়নে অন্তর্ভুক্ত করে নিয়েছেন; এখন এই আসন্ন প্রতিবেদনের ফলাফলই নির্ধারণ করবে যে, সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা শেষ পর্যন্ত বাস্তবসম্মত বা যৌক্তিক হিসেবে টিকে থাকবে কি না।
টেকনিক্যাল প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, S&P 500 সূচকের ক্রেতাদের মূল্যের $7,547-এর রেসিস্ট্যান্স লেভেল অতিক্রম করাতে হবে। এতে করে আরও উর্ধ্বমুখী প্রবণতা নিশ্চিত হবে এবং $7,574-এর দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা উন্মুক্ত হবে। ক্রেতারা সূচকটির দর $7,607-এর উপরে বজায় রাখতে পারলে ক্রেতাদের অবস্থান আরও দৃঢ় হবে। নিম্নমুখী প্রবণতার ক্ষেত্রে, সূচকটির দর $7,518 এরিয়ায় থাকা অবস্থায় ক্রেতাদের সক্রিয় হতে। ঐ লেভেল ব্রেক করে নিম্নমুখী হলে সূচকটির দর সম্ভবত $7,494 পর্যন্ত নেমে যাবে এবং এরপর $7,474-এর দিকে দরপতনের সম্ভাবনা উন্মুক্ত হতে পারে।